বাংলা অভিধানে একটি শব্দ আছে ‘ভীমরতি’ বা ‘ভীমরথী’ যার অর্থ দেয়া আছে –বয়স সাতাত্তর বছর সাতমাস সাতরাত পূর্ণ হওয়ার অবস্থায় অর্থাৎ অতিশয় বার্ধক্যবশত হওয়ায় বুদ্ধি ভ্রংশ হওয়া। যেমন বলে থাকি – বুড়োর ভীমরতি হয়েছে।কিন্তু কার জন্য বলি? এই প্রশ্নের একটি উত্তর আমি পেয়েছি।আমার মতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কর্ম অদক্ষতা, যোগ্যতাহীনতা যেন মনে করিয়ে দেয় –সেই যে বাল্যকালে বয়স কমিয়ে নিজেকে চির যুবক রাখার চেষ্টা তারা করেছিলেন, তারা বোধহয় তাদের প্রৌঢ়কালও আর ঠেকাতে পারছেন না।বয়সে তারা যতই যুবক থাকুক, বাস্তবে তারা নিতান্তই অকর্মণ্য। এর কারণ তাদের অতিশয় বার্ধক্যবশত বুদ্ধির ভ্রংশতা।এই অবস্থাকে বলে ভীমরতি।এই অবস্থায় উপনীত ব্যক্তিদের একটি পূজা অর্চনা পালন করতে হয়, যার নাম ভীমরথের পূজা। আমাদের শ্রদ্ধের শিক্ষক, ভিসি, প্রো–ভিসি সমাবর্তনের অনুষ্ঠানের পরিবর্তে যদি ভীমরথের পুজো সম্পাদনের আয়োজন করেন তাহলে তারা অন্তত ঘৃণার হাত থেকে উদ্ধার পেয়ে, মানুষের সহানুভূতির আশ্রয় পেতে পারেন।
পরবর্তীতে ক্রমানুসারে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় সমূহের শিক্ষকরা এবং তারও পরবর্তীতে আমাদের সংসদ সদস্য, মন্ত্রীবর্গ ও মাননীয় প্রেসিডেন্টও যদি ভীমরথের পুজো সম্পাদন করেন তাহলে দুর্ভাগা এ জাতি তাদের আর ঘৃণার চোখে নয়,বরংচ সহানুভূতির চোখেই দেখবে।
হতভাগ্য ছাত্র ছাত্রী ও দুর্ভাগা এই জাতির জন্য এই কি অনেক বড় প্রাপ্য নয়?আমরা আর এদের কর্ম অদক্ষতা বা যোগ্যতাহীনতাকে ঘৃণা করবো না বরংচ ভীমরতী হয়েছে বলে তাদের প্রতি আরো সহানুভূতিশীল হবো।
নিবেদান্তে
হতভাগ্য ছাত্র ছাত্রী এবং এ দেশের ভাগ্য বঞ্চিত আপামর জনসাধারণ।
২০০২
**************
শব্দের উৎস ও অর্থউৎপত্তি: সংস্কৃত ‘ভীমরাত্রি’থেকে প্রাকৃত হয়ে বাংলায় ‘ভীমরতি রূপ নিয়েছে।ভীম অর্থ: ভীষণ বা ভয়ংকর।রতি বা রাত্রি অর্থঃ বিশেষ রাত বা সময়।
ধরম বা বয়স: মানুষের জীবনের ৭৬ বা ৭৭ বছরের বার্ধক্যকাল।
প্রচলিত ব্যবহারঃ বুদ্ধিভ্রংশ। বৃদ্ধ বয়সে জ্ঞানবুদ্ধি কমে যাওয়া বা খ্যাপামোর মতো আচরণ করা।অন্য অর্থ: অতিরিক্ত বা অস্বাভাবিক কোঁকড়ানো ভাব কিংবা অতি বার্ধক্যে আচরণে অসংলগ্নতা প্রকাশ পাওয়া।